বিয়েতে পরার শাড়ি বাছাই করা সহজ নয়। কনের চেয়ে বেশি ঝলমলে হওয়া যাবে না, আবার সাদামাটা লাগাও চলবে না। তাই সময়, রং আর আরামের কথা মাথায় রেখে বিয়েতে অতিথি হিসেবে কোন শাড়ি পরবেন, তার ৭টি সহজ আইডিয়া এখানে দিলাম, যেগুলো দিনের আর রাতের দুই রকম অনুষ্ঠানেই কাজে লাগবে।
সূচিপত্র
শাড়ি বাছার আগে ৩টি জিনিস ভেবে নিন
- সময়: দিনের অনুষ্ঠানে হালকা ও উজ্জ্বল রং ভালো লাগে। রাতের রিসেপশনে জমকালো কাজের শাড়ি মানায়।
- কনের পোশাকের রং: কনে সাধারণত লাল বা গাঢ় রঙে সাজেন। তাই অতিথি হিসেবে একই রঙের খুব জমকালো শাড়ি না পরাই ভালো।
- আরাম: অনেকক্ষণ অনুষ্ঠানে থাকতে হলে খুব ভারী বা শক্ত কাপড়ের শাড়ি ক্লান্তিকর হয়ে যায়।
বিয়েতে পরার ৭টি শাড়ির আইডিয়া
১. টিস্যু বা সিকুয়েন্স শাড়ি: রাতের অনুষ্ঠানে আলো পড়লে এই শাড়ি ঝলমল করে। সঙ্গে হালকা গয়না পরলেই সাজ পূর্ণ হয়।

২. হাতের কাজের বর্ডারসহ সিল্ক শাড়ি: বর্ডারে মতি বা জরির কাজ থাকলে শাড়ির জমিন সাধারণ হলেও লুক রাজকীয় হয়ে যায়।

৩. জর্জেট এমব্রয়ডারি শাড়ি: জর্জেট হালকা, তাই সারাদিন পরে থাকলেও কষ্ট হয় না। এমব্রয়ডারি থাকলে আলাদা করে ভারী গয়নার দরকার পড়ে না।
৪. পেস্টেল রং: পিচ, মিন্ট বা হালকা গোলাপি দিনের অনুষ্ঠানে সতেজ লাগে। ছবিতেও রংটা সুন্দর আসে।
৫. গাঢ় জুয়েল টোন: মেরুন, বটল গ্রিন বা নেভি ব্লু শীতের বিয়েতে বেশ মানায়। এসব রঙে সোনালি জরির কাজ থাকলে আরও খোলে।
৬. কনট্রাস্ট ব্লাউজ: সাধারণ শাড়ির সঙ্গে কাজ করা বা ভিন্ন রঙের ব্লাউজ পরলে পুরো লুকটা নতুন হয়ে যায়।
৭. হালকা বর্ডারের নরম সিল্ক: সবকিছু ঠিকঠাক রাখতে চাইলে এটা নিরাপদ বাছাই। ভারী না, আবার সাদামাটাও না।
সাজের ছোট কয়েকটি টিপস
- শাড়িতে ভারী কাজ থাকলে গয়না হালকা রাখুন। শাড়ি সাদামাটা হলে একটা স্টেটমেন্ট গয়না বেছে নিন।
- নিজের গায়ের রঙের সঙ্গে শাড়ির রং মেলানোর কৌশল জানতে পড়ুন স্কিন আন্ডারটোন অনুযায়ী শাড়ির রং বাছাই।
- পরার আগে একবার পিন করে কুঁচি ঠিক করে হাঁটাচলা করে দেখে নিন। অনুষ্ঠানে নিশ্চিন্তে থাকতে পারবেন।
বিয়েতে পরার শাড়ি বাছার সময় বাজেট ও সময়ের হিসাব
আগে বাজেট ঠিক করে নিয়ে তারপর বিয়েতে পরার শাড়ি খুঁজুন। একই দামে কখনো ভারী কাজের শাড়ি পাওয়া যায়, আবার কখনো ভালো কাপড়ের হালকা কাজের শাড়ি। বিয়েতে অনেকক্ষণ থাকতে হয় বলে ভালো কাপড়ের হালকা শাড়ি অনেক সময় বেশি আরামদায়ক হয়। শাড়ির ধরন ও ইতিহাস সম্পর্কে সংক্ষেপে জানতে চাইলে উইকিপিডিয়ার এই ইংরেজি লেখাটি।
বিয়ের তারিখের অন্তত এক সপ্তাহ আগে শাড়ি হাতে নিন, যাতে ব্লাউজ বানানো বা ফিটিং ঠিক করার সময় থাকে। শেষ মুহূর্তে কেনা শাড়িতে অনেক সময় ব্লাউজ নিয়ে ঝামেলা হয়, আর তখন তাড়াহুড়োয় সাজটাই নষ্ট হয়।

বিয়ের দিন শাড়ি পরার আগে যা করে নেবেন
- শাড়ি আগের দিন একবার পরে দেখে নিন, কুঁচি ঠিক আছে কিনা বুঝতে পারবেন।
- সেফটি পিন আর ম্যাচিং পেটিকোট আগে থেকে হাতের কাছে রাখুন।
- জুতা শাড়ির ঝুলের সাথে মিলিয়ে নিন, যাতে হাঁটতে অসুবিধা না হয়।
- ছোট একটা ব্যাগে অতিরিক্ত পিন আর টিস্যু রাখুন।
বিয়েতে পরার শাড়ি নিয়ে সাধারণ প্রশ্ন
কনের শাড়ির রঙের সাথে মিল রাখা কি ঠিক?
সাধারণত কনের পোশাকের রঙের জমকালো একই শেড অতিথির না পরাই ভালো। আলাদা কিন্তু মানানসই রং বেছে নিন।
দিনের বিয়েতে কোন ধরনের শাড়ি ভালো?
দিনের অনুষ্ঠানে জর্জেট, হালকা সিল্ক বা পেস্টেল রঙের শাড়ি আরামদায়ক ও সুন্দর দেখায়।
ভারী শাড়ির সাথে কেমন গয়না মানায়?
ভারী কাজের শাড়ির সাথে হালকা গয়না বা একটাই স্টেটমেন্ট গয়না মানায়। সব কিছু একসাথে ভারী হলে সাজ ভারসাম্য হারায়।
বিয়েতে সাদা শাড়ি পরা যায় কি?
সাদা বা অফ-হোয়াইট শাড়ি জরির কাজ বা রঙিন ব্লাউজের সাথে পরলে বিয়েতে সুন্দর লাগে, তবে পরিবারের রীতি আগে জেনে নেওয়া ভালো।
বিয়ের অনুষ্ঠানে শাড়ি সামলানোর কিছু ব্যবহারিক কথা
বিয়েবাড়িতে ভিড়, খাওয়ার জায়গা আর গাড়িতে ওঠা-নামা থাকে, তাই শাড়ি এমনভাবে পরুন যাতে আঁচল আর কুঁচি সহজে সামলানো যায়। ভারী আঁচলের শাড়ি পরলে কাঁধের কাছে সেফটি পিন একটু বেশি দিন, নইলে আঁচল সরে যেতে পারে।
খাওয়ার সময় আঁচল একটু গুটিয়ে কাঁধে ঠিকভাবে আটকে রাখুন, আর উজ্জ্বল রঙের শাড়িতে দাগ লাগার ভয় থাকলে সাথে ছোট একটা টিস্যু বা ওয়েট ওয়াইপ রাখুন। বাড়ি ফিরে শাড়ি খুলে প্রথমে বাতাসে মেলে দিন, তারপর ভাঁজ করে রাখুন, তাহলে পরের বার পরার সময়ও শাড়ি ভালো থাকবে।
পছন্দের শাড়ি এখানে দেখুন
বিয়ের জন্য শাড়ি খুঁজছেন? আমাদের পার্টি শাড়ির কালেকশন দেখে নিতে পারেন। কোন শাড়ি আপনার জন্য মানানসই হবে বুঝতে না পারলে যোগাযোগ করুন। আমরা পরামর্শ দেব।
