জর্জেট শাড়ির যত্ন ঠিকভাবে না নিলে সুন্দর শাড়িটাও কয়েকবার পরেই টান পড়ে বা রং ফিকে হয়ে যেতে পারে। জর্জেট হালকা ও সূক্ষ্ম সুতার কাপড়, তাই এর যত্নে একটু বাড়তি খেয়াল রাখতে হয়। ধোয়া, শুকানো, ইস্ত্রি ও রাখার সহজ নিয়মগুলো নিচে দিলাম।
সূচিপত্র
ধোয়ার আগে একটু দেখে নিন
- শাড়িতে ভারী এমব্রয়ডারি, সিকুয়েন্স বা পাথরের কাজ থাকলে বাড়িতে না ধুয়ে ড্রাই ক্লিন করানোই নিরাপদ।
- শাড়ির সঙ্গে আসা কেয়ার লেবেল বা বিক্রেতার নির্দেশনা থাকলে সেটা আগে পড়ুন।
- প্রথমবার ধোয়ার সময় গাঢ় রঙের শাড়ি আলাদা ধুন। কিছু রং ছেড়ে যেতে পারে।
জর্জেট শাড়ি ধোয়ার নিয়ম
- সাধারণ ঠান্ডা পানি নিন। গরম পানিতে জর্জেট কুঁচকে যেতে পারে।
- মৃদু ডিটারজেন্ট বা শ্যাম্পু মেশান। কড়া ব্লিচ বা পাউডার এড়িয়ে চলুন।
- ৫ থেকে ১০ মিনিট আলতো করে ভিজিয়ে রাখুন। দীর্ঘক্ষণ ভিজিয়ে রাখবেন না।
- হাত দিয়ে আলতো করে চাপ দিন। শাড়ি কচলানো বা আছড়ানো চলবে না।
- পরিষ্কার পানিতে ভালো করে ধুয়ে নিন, যাতে সাবানের ফেনা না থাকে।
শুকানো ও ইস্ত্রি
- কড়া রোদে শুকাবেন না। এতে রং জ্বলে যায়। ছায়াযুক্ত জায়গায় মেলে দিন।
- নিংড়ে না ফেলে শাড়ি তোয়ালেতে চেপে বাড়তি পানি শুষে নিন।
- ইস্ত্রি করুন কম তাপে, শাড়ির উল্টো পিঠে। এমব্রয়ডারির ওপর সরাসরি ইস্ত্রি না চালিয়ে মাঝে একটা পাতলা সুতির কাপড় রাখুন।
রাখার সময় যা মনে রাখবেন
- ধারালো আংটি, চুড়ি বা নখে লেগে জর্জেটে টান পড়তে পারে। শাড়ি পরার সময় এসব খেয়াল রাখুন।
- ভাঁজ করে সুতির কাপড় বা মসলিন ব্যাগে রাখুন। প্লাস্টিকের ব্যাগে বাতাস চলাচল করে না।
- মাঝে মাঝে ভাঁজের জায়গা বদলে নিন, নইলে একই জায়গায় দাগ বসে যেতে পারে।
জর্জেট কাপড়ের বৈশিষ্ট্য ও জর্জেট শাড়ির যত্ন কেন জরুরি
জর্জেট সাধারণত পাকানো সুতা দিয়ে বোনা হয়, তাই কাপড়টা হালকা আর একটু খসখসে ভাব থাকে। সুতা সূক্ষ্ম বলে টান লাগলে বা কিছুতে আটকালে সহজে নষ্ট হতে পারে। জর্জেট কাপড় সম্পর্কে আরও জানতে উইকিপিডিয়ার এই ইংরেজি লেখাটি।
ঠিকভাবে জর্জেট শাড়ির যত্ন নিলে শাড়ি অনেক দিন নতুনের মতো থাকে, আর বারবার ড্রাই ক্লিনের খরচও বাঁচে। এর জন্য খুব কঠিন কিছু করতে হয় না, শুধু কয়েকটা ছোট অভ্যাস মানলেই হয়।
জর্জেট শাড়ি পরার পর যা করবেন
- পরার পর শাড়ি খোলা বাতাসে কিছুক্ষণ মেলে দিন, যাতে ঘামের গন্ধ ও আর্দ্রতা চলে যায়।
- পারফিউম বা বডি স্প্রে শাড়িতে সরাসরি না দিয়ে শাড়ি পরার আগে নিজের গায়ে দিন।
- ধারালো আংটি, ব্রেসলেট বা ব্যাগের জিপে শাড়ি আটকে না যায়, সেদিকে খেয়াল রাখুন।
- দাগ লাগলে ঘষবেন না। পরিষ্কার ভেজা কাপড়ে হালকা চেপে মুছে নিন।
দাগ ও গন্ধ হলে কী করবেন
খাবারের দাগ বা তেলের দাগ লাগলে নিজে বেশি ঘষামাজা না করে দ্রুত শুকনো টিস্যুতে চেপে অতিরিক্ত তেল তুলে নিন। এরপর ড্রাই ক্লিনারকে দাগের জায়গাটা দেখিয়ে দিন। বাড়িতে কড়া কেমিক্যাল ব্যবহার করলে রং উঠে যাওয়ার ঝুঁকি থাকে।
জর্জেট শাড়ির যত্ন নিয়ে প্রশ্ন ও উত্তর
জর্জেট শাড়ি কি ওয়াশিং মেশিনে ধোয়া যায়?
সাধারণ জর্জেট শাড়ি মেশিনে না ধোয়াই ভালো। ঠান্ডা পানিতে হাতে আলতো করে ধোয়া নিরাপদ। শাড়ির সাথে আসা কেয়ার লেবেল থাকলে সেটা মেনে চলুন।
কতদিন পরপর শাড়ি ধুতে হবে?
প্রতিবার পরার পরই ধোয়ার দরকার নেই। ঘামে ভিজলে বা দু-তিনবার পরার পর ধোয়া যথেষ্ট।
ভারী কাজের জর্জেট শাড়ি কীভাবে ধোবেন?
এমব্রয়ডারি, সিকুয়েন্স বা পাথরের কাজ থাকলে ড্রাই ক্লিন করানোই সবচেয়ে নিরাপদ।
জর্জেট শাড়িতে ইস্ত্রি কীভাবে করবেন?
কম তাপে শাড়ির উল্টো পিঠে ইস্ত্রি করুন। কাজের অংশে সরাসরি ইস্ত্রি না দিয়ে মাঝে পাতলা সুতির কাপড় রাখুন।
জর্জেট শাড়ি রাখার ও ভাঁজ করার নিয়ম
ধোয়া ও শুকানোর পর জর্জেট শাড়ি সবসময় একই ভাঁজে রাখলে সেই ভাঁজের জায়গায় দাগ পড়ে যেতে পারে। তাই মাঝে মাঝে ভাঁজ বদলে নিন। শাড়ি আলাদা সুতির কাপড়ে মুড়িয়ে রাখলে ধুলা আর আর্দ্রতা থেকে ভালো থাকে।
ভারী কাজের শাড়ির ভাঁজের মাঝখানে পাতলা কাপড় বা কাগজ রাখুন, যাতে এক শাড়ির কাজ আরেক শাড়িতে আটকে না যায়। আলমারিতে একসাথে অনেক শাড়ি চেপে না রেখে একটু ফাঁকা রাখুন, তাহলে বাতাস চলাচল করবে এবং শাড়িতে গন্ধ জমবে না।
জর্জেট শাড়ি কেনার সময়ই যত্নের কথা ভাবুন
শাড়ি কেনার সময়ই কাপড়ের লেবেল ও যত্নের নিয়ম জেনে নিন। ভারী কাজের জর্জেট শাড়িতে ড্রাই ক্লিনের খরচ থাকে, আর হালকা প্রিন্টের জর্জেট বাড়িতে আলতো করে ধোয়া যায়। কোন শাড়ি আপনার জীবনযাত্রার সাথে মানাবে, সেটা আগে ভেবে নিলে পরে যত্ন নিতে সুবিধা হয়। যিনি প্রায়ই শাড়ি পরেন, তাঁর জন্য সহজে সামলানো যায় এমন শাড়িই বেশি কাজের।
আমাদের জর্জেট কালেকশন

জর্জেট শাড়ি খুঁজছেন? জর্জেট শাড়ির সব ডিজাইন দেখে নিন। শাড়ির ধরন সম্পর্কে আরও জানতে পড়তে পারেন শাড়ির ম্যাটেরিয়ালের ধরন ও বৈশিষ্ট্য।
